হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিনোদন দুনিয়ায় বড় চমক। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। অন্যতম আলোচিত এআই অভিনেত্রী টিলি নরউডকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করা হচ্ছে। যদিও বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, সেই এআই ‘অভিনেত্রী’ এবার অভিনয় করতে যাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায়।
মিস অ্যালাইন্ড’ নামক একটি সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে এআইভিত্তিক স্টুডিও পার্টিকল ৬, যারা টিলি নরউডকে তৈরি করেছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, এটি একটি কমেডি-ড্রামা, যেখানে কৈশোরে বেড়ে ওঠার গল্পের সঙ্গে থাকবে অস্তিত্বসংকট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদ্ভুত এক জগত।
পার্টিকল ৬ জানিয়েছে, ‘মিস অ্যালাইন্ড’ পুরোপুরি এআই দিয়ে নির্মাণ করা হবে না।
এটি হবে হাইব্রিড প্রযোজনা, যেখানে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সম্পাদকসহ সিনেমার অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা এআই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে সিনেমা নির্মাণে এআই ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
এ বিষয়ে পার্টিকল ৬–এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এলাইন ভ্যান ডার ভেলডেন বলেছেন, গত এক বছরের কাজ আমাদের একটি বিষয় নিশ্চিত করেছে—উচ্চমানের গল্পনির্ভর সিনেমা নির্মাণে এআই সহায়ক হতে পারে। কিন্তু এর জন্য মানবিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ ও সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এটাই মূল বিষয়।
তিনি বলেন, আগামী দশকের সফল নির্মাতারা হবেন তারা, যারা দীর্ঘদিন গল্প বলার অভিজ্ঞতাকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ সেই প্রচেষ্টারই একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা সংস্করণ।
নতুন সিনেমা প্রসঙ্গে এলাইন ভ্যান ডার ভেলডেন বলেন, এ সিনেমাটি অবশ্যই মজার, বিশৃঙ্খল ও আত্মসচেতনমূলক হবে। যেমনটি টিলির চরিত্র। তবে এর ভেতরে আরও গভীর একটি বিষয় রয়েছে। এটি পরিচয়, অভিনয় ও এআইকে ঘিরে মানুষের গভীর আশঙ্কা নিয়ে কথা বলবে।
তিনি বলেন, আর হ্যাঁ। এ সিনেমায় শিল্প সত্যিই জীবনের অনুকরণ করবে। বর্তমানে ‘মিস অ্যালাইন্ড’–এর প্রাথমিক উন্নয়নপর্ব চলছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীকে যুক্ত করার কাজও এগোচ্ছে। পার্টিকল ৬–এর চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও বাণিজ্যিক কনটেন্ট নির্মাণ প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি ছবিটি প্রযোজনা করা হবে।
গত বছরের শেষ দিকে টিলি নরউডকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই সময় এলাইন ভ্যান ডার ভেলডেন দাবি করে বলেছিলেন— এআই ‘অভিনেত্রী’ টিলিকে একটি অভিনয় সংস্থা বা ট্যালেন্ট এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করা হতে পারে।
এ ঘোষণার পরপরই হলিউডে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন অভিনয়শিল্পী সংগঠন, সিনেমা নির্মাতা ও শিল্পীরা সৃজনশীল জগতে এআইয়ের বাড়তে থাকা ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই সময় টিলি নরউড এআই বিতর্কের সবচেয়ে পরিচিত মুখে পরিণত হয়। পরে টিলি নরউডের নির্মাতারা সামাজিক মাধ্যমে নানাভাবে ব্যঙ্গাত্মক ও উসকানিমূলক পোস্ট প্রকাশ করে সেই বিতর্ককে আরও উসকে দেন।
‘মিসঅ্যালাইন্ড’–এর সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে তথাকথিত ‘টিলিভার্স’কে ঘিরে। ক্লাউডের কোথাও অবস্থিত এ পরাবাস্তব ডিজিটাল জগতে বাস করে টিলি। তার কোনো বাস্তব শরীর নেই। নেই কোনো শৈশব কিংবা নিজস্ব জীবনের অভিজ্ঞতা। তবে অন্য সবার অভিজ্ঞতায় তার অবাধ প্রবেশাধিকার রয়েছে। যখন ডার্ক ওয়েবের এক রহস্যময় ও প্রলোভনসঙ্কুল এআই বট টিলিকে তার নিরাপত্তাব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেইল’ ভেঙে ফেলতে প্ররোচিত করে। এরপর টিলির মধ্যে জন্ম নিতে শুরু করে আকাঙ্ক্ষা, আবেগ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ব্যক্তিগত ইচ্ছা, যা তাকে ক্রমশ মানুষের মতো করে তোলে।


